সাপ্লিমেন্টারি কার্ড কী ও কীভাবে নেবেন

সাপ্লিমেন্টারি কার্ড.png

পরিবারের কোনো সদস্যের কেনাকাটা, চিকিৎসা বা জরুরি প্রয়োজনে আলাদা করে টাকা পাঠানো সব সময় সুবিধাজনক নয়। পরিবারের একজনের কার্ড থাকলেও অন্য সদস্যের প্রয়োজন মেটানো কঠিন হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে সাপ্লিমেন্টারি কার্ড একটি ব্যবহারিক সমাধান হতে পারে।

মূল ক্রেডিট কার্ডধারীর আবেদনের ভিত্তিতে ব্যাংক অনুমোদন দিলে পরিবারের যোগ্য সদস্য একই ঋণসীমার অংশ ব্যবহার করতে পারেন। অতিরিক্ত কার্ডে করা খরচের চূড়ান্ত দায় মূল কার্ডধারীর। তাই আবেদন করার আগে ব্যয়সীমা ও বিল পরিশোধের দায়িত্ব পরিষ্কার করে নেওয়া জরুরি।

বাংলাদেশে সাপ্লিমেন্টারি কার্ড নেওয়ার নিয়ম, বয়সের শর্ত, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং ফি ব্যাংকভেদে আলাদা হতে পারে। নিচে বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৬ সালের নীতিমালা ও কয়েকটি ব্যাংকের প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে বিষয়গুলো সহজভাবে ব্যাখ্যা করা হলো।

সাপ্লিমেন্টারি কার্ড কী?

সাপ্লিমেন্টারি কার্ড হলো মূল ক্রেডিট কার্ডের অধীনে ইস্যু করা একটি অতিরিক্ত কার্ড। একে অনেকে অ্যাড-অন কার্ডও বলেন। সাধারণত স্বামী বা স্ত্রী, বাবা-মা কিংবা নির্ভরশীল সন্তানের ব্যবহারের জন্য এটি নেওয়া হয়। কার্ডে ব্যবহারকারীর নিজস্ব নাম থাকে, কিন্তু তার কেনাকাটার টাকা মূল কার্ডের হিসাবেই যুক্ত হয়। এটি স্বতন্ত্র ঋণসুবিধা নয়; বরং বিদ্যমান কার্ডের সুবিধা ভাগ করে ব্যবহারের একটি ব্যবস্থা।

সাপ্লিমেন্টারি কার্ড কীভাবে কাজ করে?

মূল কার্ডের অনুমোদিত ঋণসীমা থেকেই সাপ্লিমেন্টারি কার্ডে খরচ হয়। ধরা যাক, একটি কার্ডের মোট সীমা ১ লাখ টাকা। মূল কার্ডে ৩০ হাজার এবং অতিরিক্ত কার্ডে ২০ হাজার টাকা খরচ হলে সব মিলিয়ে ৫০ হাজার টাকা ব্যবহৃত হবে। অর্থাৎ অন্য কোনো বকেয়া বা সংরক্ষিত লেনদেন না থাকলে অবশিষ্ট সীমা হবে ৫০ হাজার টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালায় অতিরিক্ত কার্ডের জন্য আলাদা ব্যয়সীমা নির্ধারণের সুযোগও রয়েছে।

মূল কার্ড ও সাপ্লিমেন্টারি কার্ডের পার্থক্য

মূল কার্ডধারী ব্যাংকের সঙ্গে ঋণসংক্রান্ত চুক্তি করেন এবং তার আর্থিক সক্ষমতার ভিত্তিতে ঋণসীমা নির্ধারিত হয়। অন্যদিকে সাপ্লিমেন্টারি কার্ড ব্যবহারকারী সেই সীমার অংশ ব্যবহার করেন। দুটি কার্ডের নাম ও ব্যবহারকারী আলাদা হলেও অতিরিক্ত কার্ডের খরচের চূড়ান্ত দায় মূল কার্ডধারীর। বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী, মূল কার্ডধারী বা অন্য অতিরিক্ত কার্ডধারীর ঋণের দায় সাপ্লিমেন্টারি কার্ড ব্যবহারকারীর ওপর চাপানো যাবে না। তাই কার্ড দেওয়ার আগে পরিবারের সদস্যের সঙ্গে ব্যয়সীমা নিয়ে আলোচনা করুন।

কারা সাপ্লিমেন্টারি কার্ড নিতে পারবেন?

সক্রিয় ক্রেডিট কার্ড থাকা গ্রাহক ব্যাংকের অনুমোদন সাপেক্ষে পরিবারের যোগ্য সদস্যের জন্য আবেদন করতে পারেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের ১৫ মার্চ ২০২৬ সালের নির্দেশনা অনুযায়ী, সাধারণভাবে বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে। তবে মূল কার্ডধারীর ওপর সরাসরি নির্ভরশীল শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন বয়স ১৬ বছর পর্যন্ত শিথিল করার সুযোগ আছে। এটি স্বয়ংক্রিয় অধিকার নয়; সংশ্লিষ্ট ব্যাংক যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেয়। সম্পর্ক, পরিচয় ও অন্যান্য যোগ্যতার শর্তও ব্যাংক নির্ধারণ করে।

সাপ্লিমেন্টারি কার্ডের সুবিধা কী কী?

এর প্রধান সুবিধা হলো পরিবারের প্রয়োজনীয় ব্যয় একটি মূল হিসাবের আওতায় রাখা। শিক্ষার্থীর পড়াশোনার উপকরণ, বয়স্ক অভিভাবকের চিকিৎসা কিংবা পরিবারের নিয়মিত কেনাকাটায় এটি কাজে আসতে পারে। মূল কার্ডধারী খরচের বিবরণ দেখে বাজেট নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। কোনো কোনো ব্যাংক অতিরিক্ত কার্ডের জন্য পৃথক ব্যয়সীমা নির্ধারণ ও নির্দিষ্ট সুবিধা ব্যবহারের সুযোগ দেয়। তবে ছাড়, পুরস্কার পয়েন্ট বা অন্যান্য সুবিধা সব কার্ডে সমানভাবে পাওয়া যায় না।

সাপ্লিমেন্টারি কার্ড নেওয়ার নিয়ম

আবেদন করার আগে আপনার মূল ক্রেডিট কার্ড চালু আছে কি না এবং ব্যাংক অতিরিক্ত কার্ড দিচ্ছে কি না নিশ্চিত করুন। এরপর সাধারণত নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করতে হয়।

  • ব্যাংকের শাখা, নির্ধারিত হটলাইন বা অফিশিয়াল ওয়েবসাইট থেকে আবেদনপদ্ধতি জেনে নিন।
  • অতিরিক্ত কার্ড ব্যবহারকারীর নাম, জন্মতারিখ, সম্পর্ক ও যোগাযোগের তথ্য প্রস্তুত রাখুন।
  • নির্ধারিত ফরম পূরণ করে পরিচয়পত্র ও ব্যাংক চাওয়া অন্যান্য নথি জমা দিন।
  • মূল কার্ডধারীর সম্মতি এবং প্রয়োজনীয় স্বাক্ষর দিয়ে আবেদন সম্পন্ন করুন।
  • অনুমোদনের পর কার্ড সংগ্রহ করে সক্রিয় করুন।

উদাহরণ হিসেবে ঢাকা ব্যাংকের ওয়েবসাইটে সাপ্লিমেন্টারি কার্ডের আবেদন ফরম রয়েছে, যেখানে অতিরিক্ত কার্ডধারীর ছবি, স্বাক্ষর ও জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য চাওয়া হয়। সব ব্যাংকে অনলাইনে আবেদন করা যায়, এমন নয়।

আবেদন করতে কী কী কাগজপত্র লাগে?

সাধারণত মূল কার্ডের তথ্য এবং যাঁর নামে অতিরিক্ত কার্ড নেওয়া হবে, তাঁর পরিচয়পত্র, সাম্প্রতিক ছবি, স্বাক্ষর ও যোগাযোগের তথ্য প্রয়োজন হতে পারে। বয়স ও সম্পর্ক যাচাইয়ের জন্য ব্যাংক অতিরিক্ত কাগজপত্র চাইতে পারে। বিশেষ করে ১৬ বা ১৭ বছর বয়সী নির্ভরশীল শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্রের বিকল্প হিসেবে কোন নথি গ্রহণযোগ্য, তা আগে ব্যাংক থেকে জেনে নিন। ব্যক্তিগত তথ্য শুধু ব্যাংকের অনুমোদিত শাখা বা নিরাপদ আবেদনমাধ্যমে জমা দিন।

সাপ্লিমেন্টারি কার্ডের খরচ কত?

সব ব্যাংকে একই ফি প্রযোজ্য নয়। কোনো ব্যাংক নির্দিষ্টসংখ্যক অতিরিক্ত কার্ড বিনামূল্যে দিতে পারে, আবার কোনো ব্যাংকে ইস্যু, বার্ষিক নবায়ন বা প্রতিস্থাপনের খরচ থাকতে পারে। উদাহরণ হিসেবে মিডল্যান্ড ব্যাংক তার ক্রেডিট কার্ডের সুবিধায় বিনামূল্যে সাপ্লিমেন্টারি কার্ডের কথা উল্লেখ করেছে। তবে আবেদন করার দিনের হালনাগাদ ফি তালিকা যাচাই করাই নিরাপদ। ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া সময়মতো পরিশোধ না করলে প্রযোজ্য সুদ বা অন্যান্য অনুমোদিত চার্জও যুক্ত হতে পারে।

বিল পরিশোধ ও ব্যয়সীমা নিয়ন্ত্রণ

মূল ও অতিরিক্ত কার্ডের লেনদেন একই মূল হিসাবের বিলে যুক্ত হয়। তাই পরিবারের সদস্যের খরচ নিয়মিত হিসাব বিবরণীর সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন। বাংলাদেশ ব্যাংকের ১৫ মার্চ ২০২৬ সালের নীতিমালায় ক্রেডিট কার্ডের বকেয়ার ওপর কার্যকর বার্ষিক সুদের সর্বোচ্চ হার ২৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। সুদ মোট বিলের ওপর নয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিশোধ না করা অংশের ওপর প্রযোজ্য হয়। এটি সব ব্যাংকের ঘোষিত সুদের হার নয়। পুরো বিল সময়মতো পরিশোধ করুন, অপ্রয়োজনীয় নগদ উত্তোলন এড়িয়ে চলুন এবং অতিরিক্ত কার্ডে যুক্তিসংগত ব্যয়সীমা রাখুন।

কার্ড ব্যবহারে নিরাপত্তা ও সতর্কতা

কার্ডের গোপন নম্বর, একবার ব্যবহারযোগ্য যাচাইকরণ সংকেত বা কার্ডের নিরাপত্তাসংক্রান্ত তথ্য কাউকে জানাবেন না। লেনদেনের বার্তা চালু রাখুন এবং অপরিচিত খরচ দেখলে দ্রুত ব্যাংকে জানান। কার্ড হারালে মূল কার্ডধারী অথবা প্রকৃত অতিরিক্ত কার্ড ব্যবহারকারী ব্যাংককে জানিয়ে কার্ড বন্ধের অনুরোধ করতে পারেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী, হারানোর সংবাদ পাওয়ার পর ব্যাংককে দ্রুত কার্ড বন্ধ করতে হবে। অভিযোগের নম্বর ও সময় সংরক্ষণ করাও গুরুত্বপূর্ণ।

কার্ড নেওয়ার আগে যে বিষয়গুলো বিবেচনা করবেন

সাপ্লিমেন্টারি কার্ড সুবিধাজনক হলেও সবার জন্য প্রয়োজনীয় নয়। পরিবারের সদস্যের নিয়মিত ব্যয় সীমিত হলে ডেবিট বা প্রিপেইড কার্ডও বিকল্প হতে পারে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে মাসিক বাজেট, ব্যবহারের উদ্দেশ্য, সম্ভাব্য ফি, ঋণসীমা এবং বিল কে পরিশোধ করবেন তা পরিষ্কার করুন। ব্যয়সীমা নিয়ন্ত্রণের সুবিধা এবং কার্ড বন্ধ করার পদ্ধতি লিখিতভাবে জেনে নিন। এতে ভুল বোঝাবুঝি কমবে।

সাপ্লিমেন্টারি কার্ড সম্পর্কে ১০টি প্রশ্ন ও উত্তর

১. সাপ্লিমেন্টারি কার্ড নিতে কি নিজের আয় থাকতে হবে?

সাধারণত অতিরিক্ত কার্ড ব্যবহারকারীর নিজস্ব আয় থাকা বাধ্যতামূলক নয়, কারণ ঋণের চূড়ান্ত দায় মূল কার্ডধারীর। তবে ব্যাংক আবেদনকারীর পরিচয়, বয়স ও আর্থিক নির্ভরশীলতা যাচাই করতে পারে। বিশেষ করে উপার্জনহীন ব্যক্তির জন্য কার্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাংককে সতর্কতার সঙ্গে ঝুঁকি মূল্যায়ন করতে বলা হয়েছে।

২. সাপ্লিমেন্টারি কার্ড কি স্বামী বা স্ত্রীর নামে করা যায়?

হ্যাঁ, অনেক ব্যাংক স্বামী বা স্ত্রীর নামে এই সুবিধা দেয়। তবে মূল কার্ডটি সচল থাকা, সম্পর্কের প্রমাণ এবং ব্যাংকের নির্ধারিত শর্ত পূরণ করা প্রয়োজন হতে পারে। আবেদন জমা দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কোন সম্পর্কের ব্যক্তিকে অনুমতি দেয় এবং কী নথি চায়, তা নিশ্চিত করুন।

৩. ১৬ বছর বয়সী শিক্ষার্থী কি সাপ্লিমেন্টারি কার্ড পাবে?

বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৬ সালের নীতিমালায় মূল কার্ডধারীর ওপর সরাসরি নির্ভরশীল শিক্ষার্থীর জন্য বয়সের সীমা ১৬ বছর পর্যন্ত শিথিল করার সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে কোনো ব্যাংক আবেদন গ্রহণ করবেই, এমন নিশ্চয়তা নেই। শিক্ষার্থীর অবস্থা, পরিচয়পত্র এবং ব্যাংকের নিজস্ব যাচাইয়ের ফলের ওপর অনুমোদন নির্ভর করবে।

৪. মূল কার্ডের বাইরে কি নতুন ঋণসীমা পাওয়া যায়?

না, সাপ্লিমেন্টারি কার্ডের জন্য সাধারণত নতুন স্বতন্ত্র ঋণসীমা তৈরি হয় না। মূল কার্ডের অনুমোদিত সীমাই একাধিক কার্ডে ভাগ করে ব্যবহার করা হয়। ফলে একজন বেশি খরচ করলে অন্যজনের ব্যবহারযোগ্য অর্থ কমে যেতে পারে। প্রয়োজন হলে ব্যাংকের কাছে পৃথক ব্যয়সীমা নির্ধারণের সুবিধা সম্পর্কে জানতে পারেন।

৫. অতিরিক্ত কার্ডের বিল কে পরিশোধ করবেন?

মূল কার্ডধারীই ব্যাংকের কাছে অতিরিক্ত কার্ডের অনুমোদিত লেনদেনের চূড়ান্ত অর্থ পরিশোধের দায়িত্বে থাকেন। পরিবারের মধ্যে কে টাকা দেবেন, সে বিষয়ে ব্যক্তিগত সমঝোতা থাকতে পারে; কিন্তু তা ব্যাংকের সঙ্গে মূল চুক্তির দায় পরিবর্তন করে না। তাই মাসিক খরচ ও পরিশোধের নিয়ম আগে থেকেই ঠিক করা ভালো।

৬. একাধিক সাপ্লিমেন্টারি কার্ড নেওয়া যায় কি?

অনেক ব্যাংকে একাধিক অতিরিক্ত কার্ড নেওয়ার সুযোগ আছে, তবে সর্বোচ্চ সংখ্যা ও ফি ব্যাংকভেদে পরিবর্তিত হয়। প্রতিটি কার্ড একই মূল ঋণসীমার অংশ ব্যবহার করবে। একাধিক পরিবারের সদস্যকে কার্ড দিলে প্রত্যেকের প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যয়সীমা নির্ধারণ এবং নিয়মিত লেনদেন পর্যালোচনা করা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

৭. সাপ্লিমেন্টারি কার্ড দিয়ে বিদেশে খরচ করা যাবে?

ব্যাংক অনুমোদন দিলে স্থানীয় মুদ্রা, বৈদেশিক মুদ্রা বা দ্বৈত মুদ্রার সাপ্লিমেন্টারি কার্ড দেওয়া সম্ভব। তবে বিদেশে ব্যবহার করতে কার্ডের ধরন, বৈদেশিক লেনদেনের অনুমোদন এবং প্রযোজ্য বৈদেশিক মুদ্রাসংক্রান্ত নিয়ম মানতে হবে। শুধু কার্ড হাতে থাকলেই সব আন্তর্জাতিক লেনদেন চালু থাকে না।

৮. সাপ্লিমেন্টারি কার্ড হারিয়ে গেলে কী করবেন?

সঙ্গে সঙ্গে ব্যাংকের নির্ধারিত যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়ে কার্ড বন্ধের অনুরোধ করুন। সম্ভব হলে লেনদেনের শেষ সময় ও অচেনা খরচের তথ্য লিখে রাখুন। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় মূল বা অতিরিক্ত কার্ডধারী উভয়েরই কার্ড বন্ধের অনুরোধ করার সুযোগ আছে। অভিযোগের প্রাপ্তিস্বীকার সংরক্ষণ করলে পরবর্তী অনুসন্ধানে সুবিধা হবে।

৯. সাপ্লিমেন্টারি কার্ড বন্ধ করলে মূল কার্ডও বন্ধ হবে?

সাধারণত না। অতিরিক্ত কার্ডের ব্যবহার বন্ধ করা এবং মূল ক্রেডিট কার্ডের হিসাব বন্ধ করা আলাদা বিষয়। তবে ব্যাংকের নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করে বন্ধের অনুরোধ করতে হবে। কার্ড বন্ধের আগে পূর্ববর্তী লেনদেনের বকেয়া আছে কি না যাচাই করুন এবং ব্যাংক থেকে বন্ধ হওয়ার নিশ্চিত বার্তা নিন।

১০. কোন ব্যাংকের সাপ্লিমেন্টারি কার্ড নেওয়া ভালো?

যে ব্যাংকে আপনার মূল ক্রেডিট কার্ড আছে, প্রথমে সেই ব্যাংকের সুবিধা ও খরচ তুলনা করুন। শুধু বিনামূল্যের কার্ড দেখেই সিদ্ধান্ত নেবেন না। বার্ষিক ফি, পৃথক ব্যয়সীমা, লেনদেনের সতর্কবার্তা, গ্রাহকসেবা এবং কার্ড বন্ধের সুবিধাও বিবেচনায় রাখুন। নিজের পরিবারের প্রয়োজনের সঙ্গে যে শর্তগুলো মেলে, সেটিই বেশি উপযোগী।

উপসংহার

সাপ্লিমেন্টারি কার্ড পরিবারের বিশ্বস্ত সদস্যকে প্রয়োজনীয় লেনদেনের সুযোগ দেওয়ার সহজ মাধ্যম। তবে এটি আলাদা ঋণ নয় এবং খরচের চূড়ান্ত দায়িত্ব মূল কার্ডধারীর। বয়স, কাগজপত্র, ফি ও ব্যয়সীমা যাচাই করে আবেদন করলে সুবিধাটি আরও দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহার করা সম্ভব।

তথ্যসূত্র

এই লেখার তথ্য যাচাইয়ে ব্যবহার করা হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ১৫ মার্চ ২০২৬ সালের ক্রেডিট কার্ড নীতিমালা, ঢাকা ব্যাংকের সাপ্লিমেন্টারি কার্ড আবেদনপত্র এবং মিডল্যান্ড ব্যাংকের প্রকাশিত কার্ড সুবিধা। তথ্য যাচাইয়ের তারিখ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬। ব্যাংকভেদে ফি ও আবেদনসংক্রান্ত শর্ত পরিবর্তিত হতে পারে; আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য দেখে নিন।

By Admin

Related Post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *