প্রবাসীদের জন্য সেরা ডুয়েল কারেন্সি কার্ড ও ব্যবহারের নিয়ম

সেরা ডুয়েল কারেন্সি কার্ড.png

বিদেশে চাকরি, দীর্ঘমেয়াদি বসবাস বা নিয়মিত যাতায়াতের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ থেকে নেওয়া একটি ডুয়েল কারেন্সি কার্ড অনেক কাজ সহজ করতে পারে। একই কার্ডে দেশে টাকায় এবং বিদেশে অনুমোদিত বৈদেশিক মুদ্রায় লেনদেন করা যায়। তবে শুধু “আন্তর্জাতিক” সুবিধা থাকলেই কার্ডটি প্রবাসীর জন্য সেরা হয় না; পাসপোর্ট এন্ডোর্সমেন্ট, বিদেশি এটিএম খরচ, অনলাইন নিয়ন্ত্রণ, কার্ড নেটওয়ার্ক এবং জরুরি সহায়তাও বিবেচনা করতে হয়।

আজকে পর্যন্ত কার্যকর বাংলাদেশ ব্যাংকের সমন্বিত বৈদেশিক মুদ্রা নির্দেশনা অনুযায়ী, একজন প্রাপ্তবয়স্ক বাংলাদেশি নাগরিককে সাধারণ ভ্রমণের জন্য একটি ক্যালেন্ডার বছরে সর্বোচ্চ ১২,০০০ মার্কিন ডলার বা সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ছাড় করার অনুমতি রয়েছে। বৈধ চাকরি, অভিবাসন বা পড়াশোনার উদ্দেশ্যে একমুখী টিকিটে বিদেশে গেলে চলতি বছরের অব্যবহৃত ভ্রমণ কোটার পুরো অংশ ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। তবে চাকরি, অভিবাসন বা পড়াশোনার উদ্দেশ্যে বিদেশে যাওয়া ব্যক্তির জন্য বহু বছরের অগ্রিম এন্ডোর্সমেন্ট সুবিধা প্রযোজ্য নয়।

এই লেখায় “সেরা” শব্দটি কোনো নির্দিষ্ট ব্যাংককে সামগ্রিকভাবে প্রথম স্থানে রাখার অর্থে ব্যবহার করা হয়নি। কার্ডগুলোর আন্তর্জাতিক ব্যবহার, লেনদেন নিয়ন্ত্রণ, গ্রহণযোগ্যতা, প্রকাশিত সীমা ও প্রবাসীদের সম্ভাব্য ব্যবহারের ধরন বিবেচনা করে কয়েকটি বিকল্প তুলে ধরা হয়েছে। ব্যক্তিভেদে উপযুক্ত কার্ড ভিন্ন হতে পারে।

ডুয়েল কারেন্সি কার্ড কী এবং প্রবাসীদের কেন দরকার

ডুয়েল কারেন্সি কার্ড এমন ডেবিট, ক্রেডিট বা প্রিপেইড কার্ড, যা বাংলাদেশে টাকায় এবং অনুমোদন সাপেক্ষে বিদেশে বৈদেশিক মুদ্রায় ব্যবহার করা যায়। প্রবাসীরা এটি দোকান, হোটেল, অনলাইন বুকিং, সাবস্ক্রিপশন ও বিদেশি এটিএমে ব্যবহার করতে পারেন। ডেবিট কার্ডে নিজের হিসাবের টাকা খরচ হয় বলে দৈনন্দিন ব্যয় নিয়ন্ত্রণও তুলনামূলক সহজ।

২০২৬ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের মূল নিয়ম

বাংলাদেশ ব্যাংকের ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখের সমন্বিত বৈদেশিক মুদ্রা নির্দেশনা অনুযায়ী, অনুমোদিত ডিলার ব্যাংক একজন প্রাপ্তবয়স্ক বাংলাদেশি ভ্রমণকারীর জন্য একটি ক্যালেন্ডার বছরে সর্বোচ্চ ১২,০০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত বৈদেশিক মুদ্রা ছাড় করতে পারে। এর মধ্যে একবারে সর্বোচ্চ ৫,০০০ মার্কিন ডলার নগদ নোট হিসেবে দেওয়া যেতে পারে। ভ্রমণ কোটার অর্থ নগদ বা আন্তর্জাতিক কার্ডে ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী পাসপোর্টে এন্ডোর্সমেন্ট করতে হয় এবং একই বছরের মোট ব্যবহার অনুমোদিত কোটার সঙ্গে সমন্বয় করা হয়।

বৈধ চাকরি, অভিবাসন বা পড়াশোনার উদ্দেশ্যে একমুখী টিকিটে যাত্রাকারী চলতি বছরের অব্যবহৃত ভ্রমণ কোটার পুরো অংশ ব্যবহার করতে পারেন, তবে তাদের জন্য বহু বছরের এন্ডোর্সমেন্ট সুবিধা প্রযোজ্য নয়। অনুমোদিত ব্যক্তিগত বৈদেশিক মুদ্রা হিসাব বা আবাসিক বৈদেশিক মুদ্রা আমানত হিসাবের নিজস্ব ব্যালেন্স থেকে কার্ডে নন-ক্যাশ লেনদেনের ক্ষেত্রে পাসপোর্ট এন্ডোর্সমেন্টের নিয়ম ভিন্ন হতে পারে। সাধারণ বৈধ অনলাইন কেনাকাটায় একক লেনদেনে সর্বোচ্চ ৩০০ মার্কিন ডলার বা সমপরিমাণ অর্থ ব্যবহারের বিধান রয়েছে। এ ধরনের অনলাইন কেনাকাটার মোট অর্থ অব্যবহৃত বার্ষিক ভ্রমণ কোটার সঙ্গে অতিরিক্ত সর্বোচ্চ ১,০০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত হতে পারে। বিশেষ বৈধ উদ্দেশ্যে ব্যাংকের যাচাই ও প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী ভিন্ন ব্যবস্থা থাকতে পারে।

প্রবাসীদের জন্য বিবেচনাযোগ্য ডুয়েল কারেন্সি কার্ড: ব্যবহারভিত্তিক তুলনা

কোনো একটি কার্ডকে সব প্রবাসীর জন্য সেরা বলা যথাযথ নয়। গন্তব্য দেশ, বিদেশি এটিএম ব্যবহারের পরিমাণ, অনলাইন লেনদেন, ব্যাংকের ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণ এবং কার্ড নেটওয়ার্কের গ্রহণযোগ্যতা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। নিচের ক্রমটি কোনো র‌্যাঙ্কিং নয়। ব্যাংকগুলোর ফি, লেনদেন সীমা ও সুবিধা পরিবর্তিত হতে পারে, তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য যাচাই করুন।

১. ব্র্যাক ব্যাংক ভিসা প্লাটিনাম মাল্টিকারেন্সি ডেবিট কার্ড

ব্র্যাক ব্যাংকের ভিসা প্লাটিনাম মাল্টিকারেন্সি ডেবিট কার্ড স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক লেনদেনে ব্যবহার করা যায়। বিদেশি মুদ্রায় ব্যবহারের জন্য ভ্রমণ কোটার বিপরীতে পাসপোর্ট এন্ডোর্সমেন্ট করতে হয়। ব্যাংকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী বার্ষিক ভ্রমণ কোটা সর্বোচ্চ ১২,০০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত হতে পারে এবং বিদেশি এটিএম থেকে নগদ উত্তোলনের প্রকাশিত সীমা দৈনিক ৩০০ ও মাসিক ১,৫০০ মার্কিন ডলার। ফি ও অন্যান্য লেনদেন সীমা ব্যবহারের আগে ব্যাংকের সর্বশেষ চার্জের তফসিল থেকে যাচাই করা উচিত।

২. ইস্টার্ন ব্যাংক ভিসা প্লাটিনাম বা মাস্টারকার্ড প্লাটিনাম ডেবিট

ইস্টার্ন ব্যাংকের ভিসা প্লাটিনাম ও মাস্টারকার্ড প্লাটিনাম ডেবিট কার্ডে ডুয়েল কারেন্সি সুবিধা রয়েছে। প্রয়োজনীয় পাসপোর্ট এন্ডোর্সমেন্টের পর আন্তর্জাতিক পিওএস ও বৈধ অনলাইন লেনদেন করা যায় এবং সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্ক সমর্থিত এটিএম থেকেও অর্থ উত্তোলনের সুবিধা রয়েছে। ব্যাংকের প্রকাশিত তথ্যে লেনদেনের বার্তা সতর্কতা এবং অনলাইন কেনাকাটায় এককালীন গোপন সংকেতভিত্তিক দুই ধাপের যাচাই সুবিধার কথাও উল্লেখ আছে।

৩. ইউসিবি ডুয়েল কারেন্সি ডেবিট কার্ড

ইউসিবি ডুয়েল কারেন্সি ডেবিট কার্ড স্থানীয় ও বিদেশি মুদ্রার লেনদেনে ব্যবহার করা যায়। ব্যাংকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী এটি সংশ্লিষ্ট ভিসা বা মাস্টারকার্ড নেটওয়ার্কের পিওএস, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও এটিএমে ব্যবহারযোগ্য। আন্তর্জাতিক ব্যবহারের জন্য বৈধ পাসপোর্টে এন্ডোর্সমেন্ট প্রয়োজন এবং ব্যক্তিগত বার্ষিক ভ্রমণ কোটার সীমা সর্বোচ্চ ১২,০০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত। ফি ও অন্যান্য সীমা ব্যবহারের আগে ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য থেকে যাচাই করুন।

৪. প্রাইম ব্যাংক প্রায়োরিটি মাল্টি-কারেন্সি ডেবিট

প্রাইম ব্যাংকের প্রায়োরিটি মাল্টি-কারেন্সি ডেবিট কার্ড আন্তর্জাতিক এটিএম, পিওএস ও অনলাইন লেনদেনে ব্যবহারযোগ্য। বিদেশি মুদ্রায় লেনদেনের আগে পাসপোর্ট এন্ডোর্সমেন্ট প্রয়োজন। ব্যাংকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী যোগ্য প্রায়োরিটি ব্যাংকিং ডেবিট কার্ডে লাউঞ্জকি সুবিধাও রয়েছে। তবে যোগ্যতা, বিনামূল্যের প্রবেশসংখ্যা এবং প্রযোজ্য চার্জ পরিবর্তিত হতে পারে, তাই ভ্রমণের আগে ব্যাংকের সর্বশেষ শর্ত যাচাই করুন।

৫. সিটি ব্যাংক সিটিম্যাক্স আমেরিকান এক্সপ্রেস

সিটি ব্যাংকের সিটিম্যাক্স আমেরিকান এক্সপ্রেস কার্ড প্রয়োজনীয় পাসপোর্ট এন্ডোর্সমেন্টের পর বিদেশে এটিএম, পিওএস ও বৈধ অনলাইন লেনদেনে ব্যবহার করা যায়। ব্যাংকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী মার্কিন ডলারে নির্দিষ্ট পিওএস ও অনলাইন লেনদেনে আলাদা মুদ্রা রূপান্তর মার্জিন নেই এবং বিদেশি এটিএমে প্রতি উত্তোলনের জন্য ২.৭৫ মার্কিন ডলার চার্জ উল্লেখ রয়েছে। অন্য মুদ্রায় লেনদেনের ক্ষেত্রে রূপান্তর ও অন্যান্য প্রযোজ্য চার্জ থাকতে পারে। আমেরিকান এক্সপ্রেসের গ্রহণযোগ্যতা স্থানভেদে ভিন্ন হতে পারে, তাই গন্তব্য দেশের ব্যবহারযোগ্যতা এবং সর্বশেষ চার্জের তফসিল আগে যাচাই করুন।

বিদেশে চাকরির জন্য যাওয়ার আগে যা করবেন

বিদেশে কার্ড ব্যবহারের আগে শুধু কার্ডের ধরন নয়, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও গুরুত্বপূর্ণ। পাসপোর্ট এন্ডোর্সমেন্টের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পিওএস, অনলাইন লেনদেন ও এটিএম সুবিধা সক্রিয় আছে কি না এবং বিদেশে নিবন্ধিত নম্বর বা ই-মেইলে এককালীন গোপন সংকেত পাওয়া যাবে কি না, তা আগেই যাচাই করুন।

  • পাসপোর্ট, ভিসা, টিকিট ও প্রয়োজনীয় কাগজ নিয়ে এন্ডোর্সমেন্ট সম্পন্ন করুন।
  • নগদ ও কার্ডে কত বৈদেশিক মুদ্রা নেবেন তা আগে ভাগ করুন।
  • আন্তর্জাতিক পিওএস, অনলাইন ও এটিএম সুবিধা সক্রিয় আছে কি না নিশ্চিত করুন।
  • বিদেশে আপনার নিবন্ধিত নম্বরে বার্তা ও ওটিপি পৌঁছাবে কি না পরীক্ষা করুন।
  • ব্যাংকের আন্তর্জাতিক সহায়তা নম্বর ও কার্ড ব্লক করার পদ্ধতি সংরক্ষণ করুন।

বিদেশে কার্ড ব্যবহারে খরচ কমানোর কৌশল

বিদেশি দোকান বা এটিএম যদি আপনার কার্ডের নিজস্ব মুদ্রায় রূপান্তর করে বিল দেওয়ার বিকল্প দেখায়, লেনদেন নিশ্চিত করার আগে প্রদর্শিত বিনিময় হার ও অতিরিক্ত চার্জ দেখে নিন। অনেক ক্ষেত্রে গন্তব্য দেশের স্থানীয় মুদ্রায় লেনদেন করলে কার্ড নেটওয়ার্ক বা ব্যাংকের স্বাভাবিক রূপান্তর হার প্রযোজ্য হয়।

ইতিমধ্যে দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকলে কী করবেন

বাংলাদেশ থেকে নতুন চাকরিতে বিদেশে গেলে টাকাভিত্তিক ডুয়েল কারেন্সি কার্ড প্রাথমিক লেনদেনে কাজে লাগতে পারে। অন্যদিকে যোগ্য প্রবাসী বাংলাদেশির জন্য বৈদেশিক মুদ্রা হিসাবের সঙ্গে যুক্ত আন্তর্জাতিক ডেবিট কার্ডও একটি বিকল্প। ইস্টার্ন ব্যাংকের ইবিএল গ্লোবাল হিসাবে গ্লোবাল ভিসা ডেবিট কার্ড, ব্র্যাক ব্যাংকের প্রবাসীদের বৈদেশিক মুদ্রা হিসাবে মার্কিন ডলারভিত্তিক আন্তর্জাতিক ডেবিট কার্ড এবং প্রাইম ব্যাংকের প্রাইম অ্যাটলাস বৈদেশিক মুদ্রা হিসাবে মার্কিন ডলার হিসাবের বিপরীতে আন্তর্জাতিক ডেবিট কার্ডের সুবিধা রয়েছে। যোগ্যতা, অর্থের উৎস ও ব্যবহারের নিয়ম ব্যাংকভেদে আলাদা, তাই হিসাব খোলার আগে শর্ত যাচাই করুন।

কার্ড বাছাইয়ের আগে পাঁচটি বিষয় যাচাই করুন

শুধু বার্ষিক ফি নয়, বিদেশি এটিএম ফি, ডলার ছাড়া অন্য মুদ্রায় রূপান্তর খরচ, অনলাইন লেনদেন নিয়ন্ত্রণ, অ্যাপ থেকে কার্ড বন্ধ করার সুবিধা এবং বিদেশ থেকে গ্রাহকসেবা পাওয়া যায় কি না—এই পাঁচটি বিষয় তুলনা করুন। আপনি যে দেশে থাকবেন সেখানে কার্ড নেটওয়ার্কের বাস্তব গ্রহণযোগ্যতাও গুরুত্বপূর্ণ।

প্রায় জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

১. ডুয়েল কারেন্সি কার্ড করতে কি পাসপোর্ট লাগবে?

স্থানীয় ডেবিট কার্ড পেতে সব ক্ষেত্রে পাসপোর্ট বাধ্যতামূলক নাও হতে পারে। কিন্তু ভ্রমণ কোটার বিপরীতে বিদেশি মুদ্রায় ব্যবহার চালু করতে বৈধ পাসপোর্ট সাধারণত প্রয়োজন, কারণ ব্যাংক অনুমোদিত পরিমাণ এন্ডোর্স করে।

২. বছরে কত মার্কিন ডলার ব্যবহার করা যায়?

বর্তমান সাধারণ ভ্রমণ ব্যবস্থায় একজন প্রাপ্তবয়স্ক বাংলাদেশি নাগরিককে একটি ক্যালেন্ডার বছরে সর্বোচ্চ ১২,০০০ মার্কিন ডলার বা সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ছাড় করার অনুমতি রয়েছে। ভ্রমণ কোটার বিপরীতে নগদ ও আন্তর্জাতিক কার্ডে ব্যবহৃত অর্থ সংশ্লিষ্ট বছরের মোট অনুমোদিত সীমার সঙ্গে সমন্বয় করা হয়।

৩. বিদেশে চাকরিতে গেলে কি পুরো ১২,০০০ ডলার নেওয়া যাবে?

বৈধ চাকরি, অভিবাসন বা পড়াশোনার উদ্দেশ্যে একমুখী টিকিটে বিদেশে গেলে চলতি ক্যালেন্ডার বছরের অব্যবহৃত ভ্রমণ কোটার পুরো অংশ ছাড় করার সুযোগ রয়েছে। তবে অর্থ ছাড়ের পদ্ধতি এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকের যাচাই ও প্রযোজ্য নিয়মের ওপর নির্ভর করবে।

৪. একবার এন্ডোর্সমেন্ট করলে কি বহু বছর ব্যবহার করা যায়?

বাংলাদেশ ব্যাংকের বর্তমান নির্দেশনা অনুযায়ী যোগ্য সাধারণ ভ্রমণকারীর আন্তর্জাতিক কার্ডে পাসপোর্টের বৈধতার মেয়াদ পর্যন্ত একাধিক বছরের ভ্রমণ সুবিধা এন্ডোর্স করা যেতে পারে। তবে প্রতিটি ক্যালেন্ডার বছরের ব্যবহার সেই বছরের অনুমোদিত সীমার মধ্যে থাকতে হবে এবং অব্যবহৃত কোটা পরের বছরে যোগ হয় না। চাকরি, অভিবাসন বা পড়াশোনার উদ্দেশ্যে বিদেশে যাওয়া ব্যক্তির ক্ষেত্রে বহু বছরের এই সুবিধা প্রযোজ্য নয়।

৫. বিদেশি এটিএম থেকে টাকা তোলা যায়?

কার্ডে আন্তর্জাতিক এটিএম সুবিধা সক্রিয় থাকলে সাধারণত তোলা যায়। তবে ব্যাংকের নিজস্ব সীমা, উত্তোলন ফি, স্থানীয় এটিএম মালিকের চার্জ এবং মুদ্রা রূপান্তর খরচ থাকতে পারে। তাই বেশি নগদ দরকার হলে আগে ব্যাংকের দৈনিক ও মাসিক সীমা দেখে নেওয়া ভালো।

৬. অনলাইনে ৩০০ ডলারের বেশি পেমেন্ট করা যায়?

সাধারণ বৈধ অনলাইন কেনাকাটায় একক লেনদেনে সর্বোচ্চ ৩০০ মার্কিন ডলার বা সমপরিমাণ অর্থ ব্যবহারের বিধান রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী এ ধরনের অনলাইন কেনাকাটার মোট অর্থ অব্যবহৃত বার্ষিক ভ্রমণ কোটার সঙ্গে অতিরিক্ত সর্বোচ্চ ১,০০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত হতে পারে। হোটেল বুকিং, শিক্ষা বা অন্যান্য নির্দিষ্ট বৈধ উদ্দেশ্যে ভিন্ন ব্যবস্থা থাকতে পারে। ৩০০ মার্কিন ডলারের বেশি কোনো লেনদেনের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের কাছে উদ্দেশ্য, অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করুন।

৭. ভিসা, মাস্টারকার্ড নাকি আমেরিকান এক্সপ্রেস ভালো?

কার্ড নেটওয়ার্কের গ্রহণযোগ্যতা দেশ, ব্যাংক, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও এটিএমভেদে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই ভিসা, মাস্টারকার্ড বা আমেরিকান এক্সপ্রেসের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আপনার গন্তব্য দেশের দোকান, এটিএম এবং প্রয়োজনীয় অনলাইন সেবায় সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্ক গ্রহণ করা হয় কি না যাচাই করুন।

৮. বিদেশে কার্ড হারালে প্রথমে কী করব?

সঙ্গে সঙ্গে ব্যাংকের অ্যাপ, ইন্টারনেট ব্যাংকিং বা কল সেন্টার দিয়ে কার্ড ব্লক করুন এবং সাম্প্রতিক লেনদেন পরীক্ষা করুন। সন্দেহজনক লেনদেন থাকলে দ্রুত অভিযোগ নথিভুক্ত করুন এবং ব্যাংকের দেওয়া অভিযোগ নম্বর বা রেফারেন্স সংরক্ষণ করুন।

৯. দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকলে বাংলাদেশি ডুয়েল কারেন্সি কার্ড রাখা কি দরকার?

বাংলাদেশে পরিবার, সঞ্চয় বা নিয়মিত আর্থিক লেনদেন থাকলে একটি বাংলাদেশি কার্ড অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনার মাধ্যম হিসেবে রাখা যেতে পারে। তবে বিদেশে দীর্ঘদিন বসবাস করলে স্থানীয় ব্যাংকের কার্ড, বাংলাদেশি ডুয়েল কারেন্সি কার্ড এবং যোগ্য হলে বৈদেশিক মুদ্রা হিসাবের সঙ্গে যুক্ত আন্তর্জাতিক কার্ডের মোট খরচ ও সুবিধা তুলনা করে সিদ্ধান্ত নিন। মুদ্রা রূপান্তর ও বিদেশি এটিএম চার্জ মোট ব্যয়ে প্রভাব ফেলতে পারে।

১০. শেষ পর্যন্ত কোন কার্ডটি সেরা?

সবার জন্য একই ডুয়েল কারেন্সি কার্ডকে সেরা বলা যায় না। ব্র্যাক ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, ইউসিবি, প্রাইম ব্যাংক ও সিটি ব্যাংকের উল্লেখিত কার্ডগুলোর সুবিধা, যোগ্যতা, কার্ড নেটওয়ার্ক, বিদেশি এটিএম চার্জ এবং ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণের ধরন আলাদা। আপনার গন্তব্য দেশ, লেনদেনের ধরন, বৈদেশিক মুদ্রার উৎস এবং সর্বশেষ প্রযোজ্য চার্জ যাচাই করে উপযুক্ত কার্ড নির্বাচন করুন।

উপসংহার

প্রবাসীদের জন্য উপযুক্ত ডুয়েল কারেন্সি কার্ড বেছে নেওয়ার সময় শুধু বিদেশে ব্যবহার করা যায় কি না তা দেখলে হবে না। পাসপোর্ট এন্ডোর্সমেন্ট, আন্তর্জাতিক লেনদেন সুবিধা, অনলাইন সীমা, বিদেশি এটিএম চার্জ, মুদ্রা রূপান্তর খরচ এবং নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণও যাচাই করা উচিত। দীর্ঘমেয়াদি প্রবাসীদের ক্ষেত্রে যোগ্যতা থাকলে বৈদেশিক মুদ্রা হিসাবের সঙ্গে যুক্ত আন্তর্জাতিক ডেবিট কার্ডের সুবিধা ও খরচও আলাদাভাবে তুলনা করা যেতে পারে।

By Admin

Related Post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *